জেনে নিন হৃদরোগ প্রতিরোধে কিছু টিপস

হৃদরোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে করণীয় কাজগুলো নিয়ে মিশিগানের হোলিস্টিক চিকিৎসক ডা. জোয়েল কে. কান কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তার হোলিস্টিক হার্ট বুক এ। এখানে তিনি ১ ডজনের ও বেশি প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন, তার দেয়া পরামর্শগুলো-
সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ হচ্ছে খাদ্য : তিনি নিজেও উদ্ভিজভিত্তিক খাবার গ্রহণ করেছেন কয়েক দশক ধরে। কিন্তু চিকিৎসা বিদ্যাতেও খাবারের ধরন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় বলে রিপোর্ট দেয়া শুরু করার পর তিনিও তার রোগীদের পরামর্শ দেন এ ধরনের খাবার গ্রহণ করার। অনেকেই হয়তো মাংস খাওয়া বাদ দেননি কিন্তু তারা এই পরামর্শ অনুসরণ করে উপকারিতা পেয়েছেন।
দিনে অন্তত ৫ কাপ সবজি গ্রহণ করুন : কীভাবে খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে দুটি বড় গবেষণা হয়েছে যেখানে তারা খুঁজে পেয়েছেন যে, যারা দিনে ৮ বা এর চেয়ে বেশি সারভিংস সবজি গ্রহণ করেন তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ কমে যারা আধা সারভিংস বা এর চেয়েও কম সবজি গ্রহণ করেন তাদের তুলনায়। তাই দিনে অন্তত ৫ কাপ ফল বা সবজি গ্রহণ করুন।
দিনে ৩ কাপ চা পান করুন : ব্ল্যাক অথবা গ্রিনটি কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমতে সাহায্য করে, রক্তের চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনফ্লামেশন কমায়।
যদি মাংস গ্রহণ করেন তাহলে সাধারণ মাংস গ্রহণ করুন : প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলা উচিৎ। হার্ভার্ড এর গবেষকদের মতে, সপ্তাহে ১ বারের বেশি  প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন বা এডিটিভস যুক্ত মাংস এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। ঘাস খাওয়া প্রাণীর মাংস খাওয়া ভালো, কারণ এতে শস্য খাওয়া প্রাণীর চেয়ে বেশি ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা হৃদ স্বাস্থ্যের উপকারী।
স্ম্যাশ ফিস গ্রহণ করুন : স্যামন, সারডিন এর মত স্ম্যাশ ফিশ গ্রহণ করুন। কারণ এগুলো হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এর ভালো উৎস। অন্য মাছের তুলনায় এদের বিষাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
প্রতি রাতে ১১ ঘণ্টা উপোস করুন : বিপাকীয় কাজের মেরামতের জন্য শরীরকে বিরতি দেয়া প্রয়োজন। এই উপবাসে থাকাটাকে এড়িয়ে চললে, মাঝরাতে স্ন্যাক্স গ্রহণ করলে ইনফ্লামেশন, রক্তের চিনির মাত্রা, রক্তের চর্বির মাত্রা এবং কোষের বয়স বৃদ্ধি পায়। ৭ টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে আপনার রান্নাঘরকে মানসিকভাবে বন্ধ করে দিন।
সক্রিয়তার অনুশীলন করুন : যারা বেশিরভাগ সময় নিষ্ক্রিয় থাকেন তাদের ৭৩ শতাংশের মধ্যেই বিপাকীয় সমস্যা তৈরি হয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
প্রতি সপ্তাহে ভিটামিন ওয়াই গ্রহণ করুন : ইয়োগাকেই ভিটামিন ওইয়া বলা হচ্ছে যা হৃদপিণ্ডের উপর সরাসরি ও শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। যাদের হৃদ স্পন্দনের সমস্যা আছে তাদের ৩ মাস ইয়োগা করলে সমস্যাটি কমে। অন্য একটি গবেষণায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাযুক্ত ৩০ জন মানুষকে দুইমাস ধরে দিনে দুইবার ৫ থেকে ৭ মিনিট ইয়োগা অনুশীলন করতে বলা হয়, তাদের বিশ্রামরত অবস্থায় হৃদস্পন্দন এর হার কমে এবং রক্তচাপ ও কমে নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের তুলনায় যারা ব্যায়াম করেননি।