কুমারীত্বের দাম ১৬ কোটি টাকা!

ঋণগ্রস্ত বাবা-মায়ের বন্ধকি বাড়ি বাঁচাতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাতে গত বছরের শেষের দিকে নিজের কুমারীত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোমানিয়ার ১৮ বছর বয়সী এক মডেল। বাবা-মার ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছিলেন উঠতি ওই মডেল। অবশেষে অনলাইনে নিলামের মাধ্যমে নিজের কুমারীত্ব বিক্রি করেছেন ফেলেছেন তিনি।

দ্য সান অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক টিভি শো-এ কুমারীত্ব নিলাম করার কথা নিজেই জানিয়েছেন রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের আলেজান্দ্রা খেফরেন নামের ওই তরুণী। জার্মানির সিনড্রেলা এসকর্ট নামে একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজের কুমারীত্ব নিলামে তোলেন। সেখানে হংকংয়ের এক ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ দর ২০ লাখ ডলার (প্রায় ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা) হেঁকে কুমারীত্ব কিনে নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হংকংয়ের ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলেজান্দ্রা খেফরেন ইতিমধ্যে আলোচনা সেরে ফেলেছেন। এখন তাঁরা দুজনেই ডেটিংয়ের অপেক্ষায় আছেন।

আলেজান্দ্রা খেফরেন বলেন, ‘আমি সিনড্রেলা এসকর্টের মাধ্যমে কুমারীত্ব বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। সেটা হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে হোটেল বুকিং করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনাও পাকাপাকি। এখন শুধু সময়টার অপেক্ষা।’

ওই মডেল আরও বলেন, ‘কুমারীত্ব নিলামের পর ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে একবার দেখা করেছিলাম। তিনি খুবই বন্ধুত্বপরায়ণ। আশা করছি দুজনের খুব ভালো সময় কাটবে।’

জার্মান অনলাইন নিলামকারী সংস্থা সিনড্রেলা এসকর্ট বলেছে, এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একই সময়ে তিন শতাধিক তরুণী তাঁদের কুমারীত্ব বিক্রির আবেদন করেছিলেন। এঁদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাসহ আরব এবং এশিয়ার তরুণীরাও ছিলেন। সেখান থেকে সর্বোচ্চ দামে আলেজান্দ্রা খেফরেনের কুমারীত্ব বিক্রি হয়ে যায়।

চুক্তি অনুযায়ী আলেজান্দ্রা খেফরেনের কুমারীত্ব বিক্রির ২০ লাখ ডলারের মধ্যে ২০ শতাংশ সিনড্রেলা এসকর্ট নিয়ে নেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে লন্ডনে এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সদ্য মডেলিংয়ে আসা এই তরুণী তাঁর এ রকম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তাঁর বাবা পুলিশ কর্মকর্তা টনি ও মা এলেনার সাফ জবাব, মেয়ে যদি তাঁর এই হীন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, তাহলে তাঁকে ত্যাজ্য মেয়ে হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলজান্দ্রা খেফরেন বলেছিলেন, তাঁর বাবা-মা অনেক কষ্ট করে উপার্জন করেন। ঋণের কারণে রোমানিয়ায় তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদও করা হতে পারে। এ ছাড়া তাঁর নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জোগানোর জন্য অর্থ উপার্জন করতে হবে। এ কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে সে সময় অর্থনৈতিক কোনো সমস্যায় নেই বলে জানিয়েছিলেন আলেজান্দ্রার বাবা-মা। তাঁরা মেয়ের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যদি মেয়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন, তাহলে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক চিরদিনের জন্য ছিন্ন করবেন তাঁরা।

উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে আলেজান্দ্রা বলেছিলেন, অনেক মেয়েই প্রেমে পড়ে তাঁদের কুমারীত্ব হারিয়ে ফেলেন। পরে ওই প্রেমিকের সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাই এটা এমন কোনো বিষয় নয়।

Facebook Comments