আর কোনোদিন জন্মদিন পালন করবেন না আসিফ

দেশীয় সঙ্গীতের যুবরাজ খ্যাত শিল্পী আসিফ আকবর। ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ কুমিল্লায় জম্মগ্রহন করেন তিনি। প্রতিবছর জম্মদিন পালন করলেও, এ বছর থেকে আর কোন জম্মাদন পালন করবেননা আসিফ।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে আসিফ আকবর লিখেছেন, ছোটবেলার স্মৃতি সবসময় অমলিন থাকে। আমরা সাত ভাই বোন, প্রত্যেকের জন্মদিন বাসায় পালন করা হতো মহানন্দে। বাসায় থাকতো আত্মীয় স্বজনদের ভিড়। কেক কাটা তো আছেই, সঙ্গে আছে ড্রইং রুমের সাজস্বজ্জা। প্রতিটি জন্মদিনেই থাকতো উৎসবের ঘনঘটা। এসব ইতিহাস এখন শুধুই জাজ্বল্যমান স্বপ্নের মত।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভয়াল রাতে পাক হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাংলাদেশিদের উপর। তারপরের ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশ। ২৬ মার্চের স্বাধীনতা উৎসব এবং ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় উৎসব ২৫ মার্চ ও ১৪ ডিসেম্বর গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার করুন ইতিহাসকে কিছুটা হলে প্রভাবিত করে। উৎসবপ্রিয় মানুষ উৎসব করবে, সেটাই স্বাভাবিক, তার মানে এই না, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা, তাদের ভুলে যেতে হবে।

জন্মদিন পালন না করার ব্যাপারে আসিফ আরো বলেন, ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। আমার জন্ম হয়েছে ১৯৭২ সালের ২৫শে মার্চ। গেলো চুয়াল্লিশ বছর সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনার মধ্যে নানাভাবে আমার জন্মদিন পালিত হয়েছে। দেশে বিদেশে আমার পাগলা ফ্যানরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। আমি কখনোই নিজ উদ্যেগে জন্মদিন পালন করিনি। আমার ফ্যানদের কাছে বিনীত অনুরোধ রইলো- গণহত্যা দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়ে শুধু এবারই নয়, আর কখনই আমার জন্মদিন পালন করা থেকে বিরত থাকুন। এতে আমাদের দেশপ্রেমের একটা উদাহরণ তৈরি হবে। আসুন আমরা গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য বুঝি।